দেশজুড়ে মাধ্যমিক পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে এবং বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে এবারের পরীক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন হবে।

শিক্ষা প্রশাসন জানিয়েছে, লিখিত পরীক্ষার পর ব্যবহারিক অংশ আগামী ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। যানজট ও পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে আগেই কেন্দ্রে প্রবেশের সময়সীমা সকাল সাড়ে ৮টা নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও পরীক্ষার কক্ষে প্রবেশের পূর্বের নিয়মাবলি অপরিবর্তিত থাকবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ দফা নির্দেশনা জারি করেছে, যা কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৪ নির্দেশনা:

১. পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।
২. প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
৩. প্রথমে বহুনির্বাচনী (MCQ) এবং পরে সৃজনশীল/রচনামূলক অংশ অনুষ্ঠিত হবে; এর মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।
৪. প্রবেশপত্র পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
৫. শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও ক্যারিয়ার শিক্ষা বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা হবে এবং কেন্দ্র তা অনলাইনে প্রেরণ করবে।
৬. ওএমআর ফরমে রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও বিষয় কোড সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে; উত্তরপত্র ভাঁজ করা যাবে না।
৭. প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে পাস করতে হবে—বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল ও ব্যবহারিক অংশে।
৮. নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে না।
৯. প্রবেশপত্র বিতরণে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান দায়ী থাকবেন।
১০. কেবল অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।
১১. কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষাকেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না।
১২. সব ধরনের পরীক্ষার জন্য একই উপস্থিতিপত্র ব্যবহার করতে হবে।
১৩. ব্যবহারিক পরীক্ষা নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
১৪. ফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।