নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ থামিয়ে ভাঙারি ব্যবসায়ীর ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। রাতভর অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবীর রবিন। পুলিশের দাবি, পিকআপচালক সোহেল রানা ও মুন্না ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। আর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেন রবিন। এ ঘটনায় রবিনকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে নওগাঁ জেলা কৃষক দল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটের দিকে মহাদেবপুর উত্তর গ্রামের চৌদ্দমাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন মহাদেবপুর উপজেলার ডিমজাউন গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫) এবং রামচরনপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪)। রবিন (২৫) উপজেলার ঈশ্বরলক্ষীপুর গ্রামের মৃত ইয়াদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুর সরকারি খাদ্যগুদামের পাশে আব্দুল আলিমের মালিকানাধীন মেসার্স সোহাগ আইরন স্টোর নামে একটি ভাঙারির দোকান রয়েছে। মঙ্গলবার দোকানের মালামাল পিকআপে করে বগুড়ায় নিয়ে বিক্রি করেন চালক সোহেল রানা ও দোকানের ব্যবস্থাপক মজনু মিয়া। বিক্রির ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে তাঁরা মহাদেবপুরে ফিরছিলেন। পথে চৌদ্দমাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়।
এ সময় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা চালক সোহেলকে মারধর করে এবং ব্যবস্থাপক মজনু মিয়াকে বেশি মারধর করে তাঁদের কাছ থেকে টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে বিশেষ পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ছিনতাইয়ে জড়িত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি পুলিশ ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে রাতভর অভিযান চালায়।
অভিযানে প্রথমে মুন্নাকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহাদেবপুরে ভাড়া বাসা থেকে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নিবন্ধনবিহীন একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে পিকআপচালক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সোহেল রানা ও মুন্না ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। আর ঘটনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন রবিন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাঁরা এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
এদিকে, গ্রেপ্তার রবিনকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে নওগাঁ জেলা কৃষক দল। বুধবার জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব এ টি এম ফিরোজ দুলুর স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
বহিষ্কারাদেশে বলা হয়, ছিনতাইয়ের ঘটনায় রবিনের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাঁর কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের পরিপন্থী বিবেচনায় জেলা কৃষক দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদসহ দলের সব পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের নেতাকর্মীদের রবিনের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।