রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে চিকিৎসা শেষে রোগীদের বাড়ি নেওয়া এবং মৃতদেহ পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন অনেকে।
হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে সোমবার (২৬ অক্টোবর) হাসপাতালের বাগান গেটের ভেতরে মানববন্ধন করেন অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের একটি অংশের সদস্যরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় পরদিন থেকে তাঁরা ধর্মঘট শুরু করেন।
ঢাকা মেডিকেল অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, তাঁদের অ্যাম্বুলেন্সের পার্কিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আশপাশের সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখতে হচ্ছে। এতে পুলিশের বাধা ও নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এ কারণে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা হাসপাতালের প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স পার্ক করে রোগীদের সেবা দিয়ে আসছি। কিন্তু হঠাৎ কর্তৃপক্ষ পার্কিং বন্ধ করে দেয়। এ কারণে আমাদের সেবাও বন্ধ রেখেছি।”
এদিকে ধর্মঘটের কারণে প্রয়োজনের সময় অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। বিশেষ করে মৃত রোগীর মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য পরিবহন খুঁজতে গিয়ে তাঁদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
তবে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবি নাকচ করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হাসপাতালের ভেতরে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের স্থায়ী পার্কিংয়ের কোনো সুযোগ রাখা হবে না।
হাসপাতাল পরিচালক বলেন, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জায়গার তীব্র সংকট রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘট চালানো কিংবা সড়কে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার মতো ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের দাবি ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থানের মধ্যে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় দ্রুত সমাধানের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধর্মঘটের কারণে জরুরি রোগী পরিবহন ও মৃতদেহ বাড়িতে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।