সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়াইন হাওরে কলেজ শিক্ষার্থী শোহাগের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাওরে কথিত অবৈধ ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বাদ আছর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারে ‘মাটিয়াইন হাওরবাসী’র ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাটিয়াইন হাওরে বর্তমানে কোনো বৈধ ইজারাদার না থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র নিজেদের ইজারাদার পরিচয় দিয়ে সাধারণ জেলে ও স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও নির্যাতন করে আসছে। একই সঙ্গে হাওরের জলাশয়গুলোতে অবৈধভাবে আধিপত্য বিস্তার করে সাধারণ মানুষের মাছ ধরার অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা বলেন, গত সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় মাটিয়াইন গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী শোহাগ বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় জাল দিয়ে মাছ ধরতে গেলে কথিত ইজারাদারের পাহারাদার হিসেবে পরিচিত শিবরামপুর (মনতলা) গ্রামের খলিল মিয়া (৩০) ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শোহাগের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাধারণ একজন কলেজ শিক্ষার্থীকে এভাবে হামলার শিকার হতে হবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ সময় বক্তারা মাটিয়াইন হাওরে কথিত অবৈধ ইজারাদারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, সাধারণ জেলে ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইনানুগভাবে মাছ ধরার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শাহিনুর রহমান, মহিবুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান, বিলাল মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।