ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা নাজমা আক্তার। পাশাপাশি তাঁর কর্মস্থল বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র শ্রেষ্ঠ হয়েছে। গত রোববার বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

রোববার সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা ও সদর উপজেলায় শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়।

“তারুণ্যের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়ন করি আজকের প্রত্যয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ি” প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে উপ-পরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ওবায়দুর রহমান, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক চিকিৎসক শিরিন সুলতানা, সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ও সাংবাদিক শাহাদৎ হোসেন।

আলোচনা সভায় উপপরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, জেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে দুই বছর ধরে ওষুধ সংকট, অবকাঠামো জরাজীর্ণ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাজেটেরও ঘাটতি রয়েছে। জেলার ১৬টি কেন্দ্রে ১৯ বার চুরি হয়েছে।

তিনি বলেন, জেলায় স্বাভাবিক সন্তান প্রসবে দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের পরিবারকল্যান পরিদর্শিকা নাজমা আক্তার শ্রেষ্ঠ হয়েছেন এবং তাঁর কর্মস্থল বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র শ্রেষ্ঠ হয়েছে। শ্রেষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সদর উপজেলা, শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদ, নবীনগর উপজেলার সাতমোড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) ইউসুফ মিয়া, জেলা মা ও শিশু কল্যানকেন্দ্র শ্রেষ্ঠ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, সদর উপজেলার মধ্যে বুধল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের রনক জাহান জেলার শ্রেষ্ঠ উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মোছা. মারুফা আক্তার শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ সহকারী এবং মেরী স্টোপস ক্লিনিক শ্রেষ্ঠ এনজিও প্রতিষ্ঠান হয়েছে।

এছাড়া সদর উপজেলার মধ্যে নাটাই উত্তর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিদর্শিকা অহিদা আক্তার সদর উপজেলায় শ্রেষ্ঠ, নাটাই উত্তর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র শ্রেষ্ঠ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন বুধল ইউনিয়ন পরিষদ। অনুষ্ঠান শেষে তাদের সবার হাতে পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে বলেন, বাল্য বিয়ে বন্ধ না করলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ হবে না। এফিডেভিট করে জন্মনিবন্ধন সংশোধন করার সুযোগ নেই। জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হলে পরিবার পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।