২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

সোমবার জাতীয় সংসদে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২,৭৬৯ মার্কিন ডলার। এই অগ্রগতিকে ভিত্তি করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে একাধিক খাতে সমন্বিত কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন ও রপ্তানি সম্প্রসারণ, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা। পাশাপাশি সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) ও ক্রীড়া অর্থনীতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য উৎপাদন, নির্মাণ, সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে কাজের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এতে আয় বৃদ্ধি এবং ধাপে ধাপে মাথাপিছু আয়ের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বাড়াতে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ সহজ করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সহজ অর্থায়ন, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা এবং বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পদক্ষেপও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং প্রণোদনার মাধ্যমে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও জানান।

প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে উৎপাদন বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ সম্প্রসারণে কার্যক্রম চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রীর মতে, এসব উদ্যোগ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলবে।