গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার কড্ডা নান্দুন এলাকায় জমির সীমানা নির্ধারণ করে নির্মিত টিনের বেড়া ভাঙচুর, অনধিকার প্রবেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে বাসন মেট্রো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিব উল্লাহ (৫৫)।
অভিযোগে হাবিব উল্লাহ জানান, ওয়ারিস ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত মোট সাড়ে সাত শতাংশ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিবারসহ বসবাস করছেন। গত ২৪ মে দলিল অনুযায়ী জমির সীমানা নির্ধারণ করে টিনের বেড়া নির্মাণ করা হয়। সে সময় এ বিষয়ে কেউ কোনো আপত্তি জানাননি বলে তাঁর দাবি।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সন্তানদের স্কুল থেকে আনতে বাইরে গেলে অভিযুক্ত ইউসুফ, ইউনুস আলী, মোস্তাক আলী ও ইমন তাঁর জমিতে প্রবেশ করে সীমানা নির্ধারণের টিনের বেড়া ভেঙে ফেলেন এবং কয়েকটি খুঁটি খুলে নিয়ে যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, খবর পেয়ে তাঁর স্ত্রী ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ওই জমিতে নিজেদের অংশ রয়েছে দাবি করেন এবং পুনরায় জমি মাপার কথা বলেন। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাবিব উল্লাহ বলেন, “আমি বাড়িতে না থাকার সুযোগে আমার চাচাতো ভাই, ভাতিজা এবং তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজন লোক বাড়ির সীমানা বেড়া ভেঙে ফেলেছে। আমার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। আমি চাই বিষয়টির আইনি সমাধান হোক। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমেই এর নিষ্পত্তি হবে।”
তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা তাঁর চাচাতো ভাই ও ভাতিজা। এ ঘটনার পর তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত পক্ষের একজন মোবাইল ফোনে বলেন, “হাবিব উল্লাহ আমাদের না জানিয়ে গভীর রাতে টিনের বেড়া দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর আমরা বেড়া সরিয়ে দিয়েছি। তাঁর বড় ভাই আহমেদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে স্থানীয়ভাবে বসে জমি মাপজোখ করে সীমানা নির্ধারণ করা হবে।”
এ বিষয়ে বাসন মেট্রো থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আওলাদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গেলে অভিযুক্তরা সেখানে ছিলেন না। উভয় পক্ষের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।