“তরুণ যদি সজাগ হয়, মাদক সেবন আর নয়”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকবিরোধী মোটরসাইকেল র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা যুব বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী, তরুণ ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করা, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মাদকবিরোধী গণআন্দোলনকে শক্তিশালী করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

র‍্যালিটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরসংলগ্ন ইসলামী ব্যাংকের সামনে থেকে শুরু হয়ে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাইজবাগ বৈরাটি গোরস্থান মাদরাসা পর্যন্ত যায়। পরে একই পথে ফিরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হয়। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানান।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি এইচ এম মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির ও উপজেলা যুব বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাওলানা মঞ্জুরুল হক হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আবুল খায়ের মুহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ তানহার আলী, বায়তুলমাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আলমগীর কবির, কর্মপরিষদ সদস্য গোলাম রহমান খোকা, পৌর জামায়াতের সভাপতি আব্দুল্লাহ সুমন এবং ইসলামী ছাত্রশিবির উপজেলা শাখার সভাপতি শিহাব উদ্দিন। এছাড়াও উপজেলা জামায়াত ও যুব বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা মঞ্জুরুল হক হাসান বলেন, “মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। তরুণ প্রজন্মকে এই অভিশাপ থেকে রক্ষা করতে হলে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণদের ওপর। তাদের সুস্থ, সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। খেলাধুলা, শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকাসক্তি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

বক্তারা মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রতিটি পরিবারে মাদকবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।