সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে নৌযান চলাচলের সময় সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত টোল আদায়, নৌকা মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি ও স্টোন ক্র্যাশার মালিকদের প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি জমা দেন সমিতির নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্টোন ক্র্যাশার মালিক সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া, নৌকা মালিক সমিতির সভাপতি রাখাব উদ্দিন, সদস্য নুর উদ্দিনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সমিতির নেতৃবৃন্দ। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন গনি মিয়া, শামিম হায়দার সেন্টু, জাকির হোসেন ডালিম, শাহিদ মিয়া, নুর আলী, সিদ্দিক মিয়া, শামসুল হক, আমির হোসেন, সুমন আহমেদ, সজীব আহমেদ, মোবাশ্বির আলম হিমেল, মোহাম্মদ জাহিদুল আলম, তুহিন আহমদ ও মাজহারুল ইসলাম।

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএর ইজারার আওতায় টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। টোলের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুললে নৌকা মালিক ও শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, লাঞ্ছিত এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফাজিলপুর এলাকায় একই স্থানে বিআইডব্লিউটিএর নামে প্রতি ঘনফুটে ৩ টাকা, খাস কালেকশনের নামে ১ টাকা এবং স্থানীয় টোল-ট্যাক্সের নামে আরও ১ টাকা ৩০ পয়সা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া শ্রীপুর ডাম্পসংলগ্ন পাটলাই নদীতে বিআইডব্লিউটিএর নামে প্রতি ঘনফুটে ৩ টাকা এবং ‘কুটগাড়ি’ বাবদ অতিরিক্ত ২ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, টোল আদায়ের কোনো সরকারি হার বা অনুমোদিত তালিকা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈধ বা পাকা রসিদ দেওয়া হয় না। ফলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং নৌকা মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্ধারিত টোল নিয়ে আপত্তি জানালে ইজারাদারের কর্মচারীরা শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের ঘটনা ঘটান। অনেক শ্রমিক প্রাণভয়ে নৌকা ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। পরে নৌকা আনতে গেলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং মনগড়া জরিমানা আদায় করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যাদুকাটা নদী নৌকা মালিক সমিতি জেলা প্রশাসকের কাছে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ, নৌকা মালিক ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সরকারি অনুমোদিত টোল তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন, বাধ্যতামূলকভাবে বৈধ রসিদ প্রদান এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

তবে স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ কিংবা সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।