দেশব্যাপী আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীন চার জেলায় এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ৭২ হাজার ৭৪৫ জন শিক্ষার্থী। সকাল ১০টায় বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ পরীক্ষা চলবে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী।
এ বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী, পরীক্ষা কেন্দ্র এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও দুই বছর আগে এসএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা।
বাড়ছে পরীক্ষার্থী, বাড়ছে কেন্দ্রও
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৯ হাজার ২১৭ জন ছাত্র এবং ৪৩ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী। নিয়মিত পরীক্ষার্থী রয়েছেন ৫২ হাজার ৫৪০ জন, বাকিরা অনিয়মিত, মানোন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থী।
গত বছর সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ হাজার ১৭২ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩ হাজার ৫৭৩ জন।
এবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৯৬টি কেন্দ্রে, যা গত বছরের তুলনায় ৮টি বেশি। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়ে ৩৩৬টিতে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছর ছিল ৩২২টি।
চার জেলার পরীক্ষার্থী ও কেন্দ্রের চিত্র
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে—
সিলেট জেলা: ১৫৫টি প্রতিষ্ঠান, ৩১,২১৫ পরীক্ষার্থী, ৩৮ কেন্দ্র
সুনামগঞ্জ: ৭৩টি প্রতিষ্ঠান, ১৩,৮৭০ পরীক্ষার্থী, ২২ কেন্দ্র
মৌলভীবাজার: ৫৩টি প্রতিষ্ঠান, ১৪,৭৩৯ পরীক্ষার্থী, ১৬ কেন্দ্র
হবিগঞ্জ: ৫৫টি প্রতিষ্ঠান, ১২,৯২১ পরীক্ষার্থী, ২০ কেন্দ্র
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর বিলকিস ইয়াছমীন বলেন,
“সিলেট বিভাগের চার জেলার ৩৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৭২ হাজার ৭৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কোথায় হারিয়ে গেল?
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয় এবং ৮০ হাজার ৬ জন উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু দুই বছর পর সেই ব্যাচের মধ্যে থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৭২ হাজার ৭৪৫ জন।
অর্থাৎ, অন্তত ৭ হাজার ২৬১ জন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে পরীক্ষার বাইরে চলে গেছে।
এ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদরা।
মদনমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন,
“এত অল্প সময়ের মধ্যে এতসংখ্যক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া উদ্বেগজনক। পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের অনেক পরিবার বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা এবং কার্যকর নীতিগত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
দেশজুড়ে পরীক্ষার্থী ১২ লাখের বেশি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী।
এর মধ্যে:
ছাত্র: ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন
ছাত্রী: ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন
অর্থাৎ, এবার পরীক্ষায় ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী অংশ নিচ্ছেন।
এবার দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
কঠোর নিরাপত্তায় পরীক্ষা আয়োজন
এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) মহানগরীর ২৫টি পরীক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০০ গজ এলাকার মধ্যে সব ধরনের জনসমাবেশ, মিছিল, উচ্চশব্দ, মাইক ব্যবহার, অস্ত্র বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন এবং অননুমোদিত ব্যক্তির প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোকে অস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা
বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসনে বসতে হবে। তিন ঘণ্টাব্যাপী পরীক্ষা শেষ হবে দুপুর ১টায়।
পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ও সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সাধারণ বৈজ্ঞানিক (সায়েন্টিফিক) ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে।