দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। দীর্ঘদিন নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ১৪ জুন তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে স্থানান্তর করেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়ায় পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার আবারও অবনতি হলে পুনরায় ভেন্টিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন।

শিল্প-সংস্কৃতিতে অনন্য অবদান

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, টেলিভিশন, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। তার শিল্পকর্ম ও সৃজনশীল উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্পাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।

শোকের ছায়া

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। সহশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী এবং অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেছেন।