আজ বাদাঘাটের এক পথসভায় সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য জনাব কামরুজ্জামান কামরুল যাদুকাটা নদীর অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধের বিষয়ে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, এর পর যদি ড্রেজার চলে, তাহলে আমি আমার সার্ধ অনুযায়ী যতটুকু পারি ‘সিরিয়াসলি’ অ্যাকশন নিব। মাননীয় এমপির এই মন্তব্যের পর থেকেই পুরো তাহিরপুর জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়।

​এমপির এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাধারণ জনগণের মনে তৈরি হয়েছে নানামুখী প্রশ্ন। নদীপাড়ের মানুষ ও সচেতন মহল এমপির এই মন্তব্যের পর অনেকেই সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন—তাহলে কি গত চার মাস ধরে যাদুকাটা নদীতে যে অবৈধ ড্রেজারের তাণ্ডব চলছে, তা বন্ধে এমপি মহোদয় এতোদিন ‘সিরিয়াসলি’ কোনো পদক্ষেপ নেননি? যদি পদক্ষেপ নিয়েই থাকতেন, তবে আজ নতুন করে কেন এমন মন্তব্য করতে হলো? এতদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই অবৈধ ড্রেজার চলল, সেই জবাবও খুঁজছেন অনেকে।

সমালোচনার পাশাপাশি অন্যদিকে এক বুক আশা ও স্বপ্ন বুনছেন যাদুকাটা নদীর পাড়ের অসহায় বাসিন্দারা। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হতে চলা এই মানুষগুলোর দাবি—এমপি সাহেব এবার অন্তত উনার মুখের কথার সাথে কাজের মিল রাখবেন। তিনি যদি সত্যিই কঠোর অ্যাকশন নেন, তবে হয়তো দীর্ঘদিনের এই ড্রেজার তাণ্ডব এবং পরিবেশ ধ্বংসের খেলা চিরতরে বন্ধ হবে।​

এখন দেখার বিষয়, এই হুঁশিয়ারি শুধুই কি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে থেকে যাবে, নাকি সত্যিই যাদুকাটা নদী রক্ষায় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে কোনো দৃশ্যমান ও স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা দেখার দীর্ঘ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষাকৃত তাহিরপুর উপজেলাবাসী।