টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের গর্তে পড়ে যাওয়া ছাগল উদ্ধার করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে একই পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানির ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার টেলকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.কে.এম. ফজলুর হক।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, একটি ছাগল পরিত্যক্ত টয়লেট বা সেপটিক গর্তে পড়ে যায়। সেটিকে উদ্ধার করতে প্রথমে একজন ব্যক্তি গর্তে নামেন। কিন্তু তিনি আর ওপরে উঠতে না পারলে তাকে বাঁচাতে একে একে আরও কয়েকজন গর্তে প্রবেশ করেন।
একপর্যায়ে গর্তের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তারা সবাই অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের বাইরে নিয়ে এলেও চারজনকেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহতরা সবাই গারো সম্প্রদায়ের সদস্য এবং একই পরিবারের বলে জানা গেছে। তারা হলেন—
গ্রাব্রিয়েল নকরেক (৪৫)
রতন নকরেক (২৫)
বাবলু হাদিমা (৩৫)
নেইমার ম্রং (১০)
উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং গর্তে জমে থাকা গ্যাসের ধরন সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক ও টয়লেট গর্ত নিরাপদভাবে বন্ধ রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া সেপটিক ট্যাংক বা পায়খানার গর্তে মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকতে পারে। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া সেখানে প্রবেশ করলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই শ্বাসরোধ বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে একাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারানোর ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
ঘটনার পর টেলকি এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। একই পরিবারের চার সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। পুলিশ ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।