বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) নতুন প্রো-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) বিজ্ঞান, গণিত ও প্রযুক্তি শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে গাজীপুরে বাউবির মূল ক্যাম্পাসে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্যের কাছে যোগদানপত্র জমা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯২-এর ১৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের চার বছরের জন্য এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

যোগদান অনুষ্ঠানে বাউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান নবনিযুক্ত দুই প্রো-উপাচার্যকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নবনিযুক্ত প্রো-উপাচার্যদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বাউবির সাবেক ট্রেজারার ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম. আহমেদ হুসেইন, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইএমবিএ প্রোগ্রামের পরিচালকসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর একাধিক গবেষণা গ্রন্থ ও গবেষণা প্রবন্ধ দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিকল্পনা কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। শিক্ষা উন্নয়ন, দূরশিক্ষণ এবং কারিকুলাম উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রকল্পে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

নবনিযুক্ত দুই প্রো-উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।