ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলতি মৌসুমে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনূক‚লে থাকার পাশাপাশি কৃষকেরা সঠিকভাবে বাগানের পরিচর্চা করায় এ বছর কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ২১ কোটি টাকার কাঁঠাল বিক্রি হবে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার পাহাড়ি টিলা ভূমি সমৃদ্ধ লাল মাটি হওয়ায় এই অঞ্চলে বেশি কাঁঠালের বেশী আবাদ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ৯৯২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ২১ কোটি ৬লাখ ৯ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করা যাবে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেয়ে খুশি বাগান মালিকেরা, অন্য দিকে দাম হাতের নাগালে থাকায় স্বস্থিতে ক্রেতারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, ছতুরপুর, পাহাড়পুর, মেরাশানি, আউলিয়া বাজার, চম্পকনগর, সিঙ্গারবিল, কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর, বায়েক, মন্দবাগ, কায়েমপুর এবং আখাউড়া উপজেলার আজমপুর, আমোদাবাদ, রাজাপুর ও আদমপুর এলাকার প্রতিটি এলাকার বাগান গুলোতে ঝুলে আছে ছোট-বড় কাঁঠাল আর কাঁঠাল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি, রোগ বালাই থেকে মুক্ত হওয়ায় পরিপক্ষ অবস্থায় বাগান থেকে কাঁঠাল বাজারজাত করা হচ্ছে।

বাগান মালিকেরা জানান, রসালো মিষ্টি হওয়ায় বাজারে পাহাড়ি টিলাভূমির কাঁঠালের বেশ চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে পাইকারেরা সাইজ অনুযায়ি বিভিন্ন দামে কাঁঠাল কিনে নিচ্ছেন। এতে বেশ লাভবান হচ্ছেন বাগান মালিকেরা। এসব বাগান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা, কুমিল্লা জেলা, নরসিংদী জেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ জেলার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন যানবাহনে করে কাঁঠাল কিনে যাচ্ছেন।

বিজয়নগরে বাগান মালিক আবুল হাসান বলেন, এ বছর আমাদের এলাকায় কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিদিনই ১’শ থেকে ২’শ কাঁঠাল কাটা হয়। প্রতি এক’শ কাঁঠাল সাইজ অনুযায়ি বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা বিজয়নগরের বিভিন্ন বাগান থেকে কাঁঠাল কিনে নিজ নিজ এলাকার বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। এ বছর কাঁঠালের ফলন ভাল হওয়ার আমরা লাভবান হবো বলে আশা করছি। তাছাড়া বিজয়নগর এলাকার মাটির গুণাগুণ ভাল হওয়ায় কাঁঠালের ফলন ভাল হয়েছে।

মোঃ ফারুক নামে অপর এক বাগান মালিক বলেন, আমরা আগেই কাঁঠাল বাগান কিনে রেখেছিলাম। প্রতি এক’শ কাঁঠাল ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে কিনে ছিলাম। এখন কাঁঠাল পরিপক্ক হওয়ার পাইকারেরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বাগানে আসছে। পাইকারদের কাছে এক’শ কাঁঠাল বিক্রি করছি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দরে। যদি এই দাম আগামী তিন মাস থাকে তাহলে আমরা ভালো লাভবান হবো।

এদিকে কাঁঠালের ক্রেতারা জানান, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি লাল মাটিতে কাঁঠালের জুড়ি নেই। দামও হাতের নাগালে রয়েছে। অন্য দিকে বিক্রেতারা জানান, চাহিদা থাকায় বিক্রিও হচ্ছে বেশ ভাল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের আনন্দ বাজারের কাঁঠাল বিক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, আমি বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণপুর, কালাছড়া, ছতুরপুর, পাহাড়পুর, মেরাসানি, আউলিয়া বাজার এলাকা থেকে কাঁঠাল কিনে এখানে নিয়ে আসি। বাজারে প্রতিদিন আড়াই’শ থেকে ৩’শ কাঁঠাল বিক্রি করি। এখানকার মানুষ অন্য এলাকার চেয়ে বিজয়নগরের কাঁঠাল বেশি পছন্দ করে। এখানে কাঁঠালের সাইজ দেখে দাম করা হয়। কাঁঠাল বিক্রি করে আমরাও লাভবান।

বাজারে কাঁঠাল কিনতে আসা বিকাশ বনিক বলেন, অন্যান্য এলাকা থেকে আমাদের বিজয়নগরের কাঁঠাল সবারই পছন্দের। এই সব এলাকার কাঁঠাল মানুষ কিনে বেশি। আমিও এসেছি কাঁঠাল কিনার জন্য। দামও মোটামোটি হাতের নাগালে বলা যায়।

লোকমান মিয়া নামে আরেক ক্রেতা বলেন, আমাদের পূর্বাঞ্চলের মাটির গুণাগুন ভালো হওয়ার এই অঞ্চলের কাঁঠাল খুব মিষ্টি হয়। সেজন্য আমরা এই এলাকার কাঁঠাল বেশি পছন্দ করি। বাজারে কাঁঠালের দামও ভালো সেজন্য কিনতে আসলাম।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশিক্ষণ অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন বলেন, মাটির গুণাগুণ ভাল হওয়ায় চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯৯২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের চাষ করা হয়েছে। এ বছর জেলাতে প্রায় ২১ কোটি ৬ লাখ ৯ হাজার টাকার কাঁঠাল বিক্রি করা হবে বলে আশা রাখছি। চলতি বছরে আবহাওয়া অনূকূলে থাকার পাশাপাশি কৃষি বিভাগ থেকে বাগান মালিকদের নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলার বিজয়নগর, কসবা ও আখাউড়া উপজেলার পাহাড়ি টিলাভূমি সমৃদ্ধ লাল মাটি হওয়ায় সেখানে কাঁঠাল বেশি ভালো হয়। সেজন্য আমাদের এই অঞ্চলে কাঁঠালের আবাদ প্রতি বছরই বাড়ছে।