রাজশাহী বিভাগের হাসপাতালগুলোতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) থাকা সত্ত্বেও জনবল ঘাটতির কারণে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। উন্নত যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও দক্ষ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সের অভাবে বহু আইসিইউ ইউনিট চালু করা যাচ্ছে না—ফলে সংকটাপন্ন রোগীরা সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় আইসিইউ সুবিধা থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগই ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। এতে হাম ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে রোগীদের রাজশাহীতে স্থানান্তর করতে হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) এই অঞ্চলের একমাত্র ভরসা হিসেবে কাজ করছে। এখানে ৪০ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট থাকলেও সেটি সরকারিভাবে অনুমোদিত নয় এবং সীমিত জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগী আইসিইউ সেবার অপেক্ষায় থাকছেন।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আইসিইউ পরিচালনায় সবচেয়ে বড় বাধা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞের ঘাটতি। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত নার্সের অভাবও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষানবিশ বা অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় সেবা চালু রাখা হচ্ছে, যা মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়।

বিভিন্ন জেলা হাসপাতালের চিত্রও একই রকম। কোথাও যন্ত্রপাতি নেই, কোথাও আবার সব প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থেকে অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করছেন, জরুরি অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসা না পেয়ে তাদের প্রিয়জনদের দূরবর্তী হাসপাতালে নিতে হচ্ছে, যা সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই কষ্টকর।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালুর পরিকল্পনা থাকলেও জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে