গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় তিন শিশু ও তাদের মাসহ পাঁচজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, চারজনকে গলা কেটে এবং একজন শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টার দিকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে শারমিন, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই শিশু কন্যা মিম ও মারিয়াকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অপর শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ফরেনসিক বিভাগের এই চিকিৎসক আরও জানান, হত্যার আগে ভুক্তভোগীদের চেতনানাশক বা অন্য কোনো পদার্থ খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনাপ্রবাহ

গত শুক্রবার (৯ মে) ভোররাতে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—তিন শিশু, তাদের মা শারমিন এবং পরিবারের আরেক সদস্য। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাত মোল্লা বাদী হয়ে শনিবার (১০ মে) কাপাসিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফোরকান মিয়াকে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩–৪ জনকেও আসামি করা হয়েছে।

ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরি গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আতিয়ার হাসান মোল্লার ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তদন্ত অবস্থা

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, ঘটনার পর থেকেই ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ বলছে, ঘটনার পেছনে একাধিক কারণ ও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।