হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা এবং ইরান-সংক্রান্ত সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ব খাদ্যবাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সতর্ক করেছে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চলতি বছর এবং আগামী মৌসুমে কৃষি উৎপাদন কমে গিয়ে বিশ্বজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হতে পারে।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সার, জ্বালানি ও কৃষি-উপকরণ পরিবাহিত হয়। এই করিডরে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং অনেক দেশে ফসল উৎপাদন কমে যেতে পারে। তাঁর ভাষায়, “সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে—বপন মৌসুমের সঙ্গে সরবরাহ সংকটের প্রতিযোগিতা চলছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের বড় অংশ রপ্তানি হয়। হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে সারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার আমদানিনির্ভর কৃষি অর্থনীতিগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, উৎপাদন ব্যয় বাড়লে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে পারেন বা তুলনামূলক কম ইনপুটনির্ভর ফসলে ঝুঁকতে পারেন। এতে গম, ভুট্টা ও ধানের মতো প্রধান খাদ্যশস্যের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক দাম বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও বাড়তে পারে।
বিশ্বব্যাংকও সতর্ক করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত পণ্যবাজারের অস্থিরতা উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ জ্বালানি ও খাদ্যমূল্য নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য বিশেষ চাপ তৈরি করবে।
তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বে খাদ্যঘাটতি তৈরি না হলেও বিদ্যমান মজুত পরিস্থিতি সাময়িক সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ২০২৬ সালের শেষ ভাগ থেকে ২০২৭ সাল নাগাদ এর পূর্ণ প্রভাব বৈশ্বিক বাজারে প্রতিফলিত হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরবরাহ করিডর সচল রাখা, রপ্তানি-নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় খাদ্য ও কৃষি-উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন বৈশ্বিক সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
