নান্দাইল(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে বোরো ধানের জমি থেকে ধান কেটে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় ১০ আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রামগবিন্দপুর গ্রামে।এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে দু’পক্ষ ঈশ্বরগঞ্জ থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হামলায় আহতরা হলেন- রামগোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুস সালাম(৫০),মো. আবু হানিফা(৪৫),মোখলেছুর রহমান(২৪),হেলাল মিয়া(৫০),মোস্তফা(৪৫),জয়নাল আবেদীন(৬৫),মোসা. হুসনা আরা খাতুন(৪০),জোসনা আরা(৪০), জনি মিয়া(১৭)। এড়াও প্রতিপক্ষের মো. শাহেদ আলী(৫০) নামে একজন আহত হয়েছেন। এছাড়াও আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আব্দুস সালাম ও মোখলেছুর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

হামলার ঘটনায় ভোক্তভোগী পরিবারের মো. আবুল খায়ের বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে উল্লিখিত আসামিরা হলেন- রামগোবিন্দপুর গ্রামের শাহেদ আলীর ছেলে খায়রুল ইসলাম রতন(৪৫),মেহেদি হাসান মঞ্জু(৩৬),মাসুদ মিয়া(৪২) শহিদ মিয়া(৩৮) এবং মাসুদ মিয়ার ছেলে মঈনুল ইসলাম লায়ন(২৩)। এছাড়াও একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক(৪৫)
তার ছেলে মিলন মিয়া(২৩)এবং মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে দুলাল মিয়া(৪৮) ও তার ছেলে একলাছ উদ্দিন বাপ্পু(২৫)।

ভোক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান পূর্ব বিরোধের জের ধরে বোরো ধানের জমি থেকে ধান কেটে বাড়ি ফেরার পথে খায়রুল ইসলাম রতন ও মেহেদী হাসান মঞ্জু গংরা প্রতিপক্ষের ওপর দেশীয় অস্ত্রে হামলা চালায়। এতে ভোক্তভোগী পরিবারের ১০ জন আহত হন। এসময় স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসা তাদের ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার করেন।

এ প্রসঙ্গে ভোক্তভোগী পরিবারের আবুল খায়ের বলেন, রতন ও মঞ্জু গংরা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। এলাকার মানুষের ওপর জোরপূর্বক হামলা, মামলা,ভূমি দখল করাই তাদের কাজ। এরই ধারাবাহিতায় ঘটনারদিন শুক্রবার সকালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দা,রামদা,ছুরি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দেশীয় নানা অস্ত্রে আমাদের লোকদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের ১০ জন নারী-পুরুষ আহত হন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে প্রতিপক্ষের মেহেদি হাসান মঞ্জু ও তার পরিবারের একাধিক মোবাইল নম্বরে কল দিলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, এ নিয়ে দু’পক্ষেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।