এলাকায় চুরির ঘটনায় বাড়ী থেকে বের করে দেয় বাবা। এরপর ছোট ভাইয়ের প্রতি আক্রোশ পোষন করে তাকে খুন করার পরিকল্পনা করে বড় ভাই। এক পর্যায়ে ছোট ভাইকে হাসুয়া দিয়ে জবাই করে। তবে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় সে। এ ঘটনার ৬ দিন পর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে বড় ভাই।

এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার তারিনীপুর গ্রামে।

পুলিশ জানায়, তারিনীপুর গ্রামের মাঠ পাড়ার ইদ্রিস আলীর ছেলে হাসান আলী (২৭) এলাকায়  বিভিন্ন চুরির ঘটনায় জড়িত হয়ে পড়ায় তার পিতা তাকে দেড় মাস আগে তাকে বাড়ী হতে বের করে দেয়। সে তখন মেহেরপুর জেলার পিরোজপুরে তার শ্বশুরবাড়ীতে বসবাস শুরু করে। ছোট ভাইয়ের প্রতি বিভিন্ন বিষয়ে তার অক্রোশের কারণে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মেহেরপুর হতে সে সাইকেল যোগে গোপনে এলাকায় আসে এবং অবস্থান করতে থাকে। বাড়ী হতে আধা কিলোমিটার দূরে জঙ্গলে সাইকেল রেখে রাত ২ টার দিকে সে বাড়ীর পেছনের নিরিবিলি জায়গা দিয়ে বাড়ীতে ঢুকে। এরপর বাড়ীর সামনে রান্না ঘরের চালার সাথে রাখা হাসুয়া নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ভাইয়ের শয়ন কক্ষের দেয়ালের ইটের ফোকর দিয়ে ছোট ভাই হোসেন আলীকে গলা জবাই করে বাড়ীর পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে গত ২৮ অক্টোবর দিনগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার তারিনীপুর গ্রামে। 

মামলার প্রধান আসামি মোঃ হাসান আলীকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে আসামি। 

ছোট ভাই  হোসেন আলী (২৩) ছিল ফার্নিচার রং মিস্ত্রি। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন শামসুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ অক্টোবর দামুড়হুদা মডেল থানায় ১৭ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪৪৭/৩২৬/৩০৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নুরুল্লাহর সরাসরি তত্ত্বাবধানে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩ নভেম্বর রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে দামুড়হুদা থানাধীন তারিনীপুর এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মোঃ হাসান আলীকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়। হাসান তারিনীপুর মাঠপাড়ার মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে। বর্তমানে তাঁর ঠিকানা মেহেরপুর জেলার  সদর উপজেলার পিরোজপুর ফুলবাগানপাড়া।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান আলী ভুক্তভোগী হোসেন আলীর সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটানোর কথা স্বীকার করেন। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ২টার দিকে হোসেন আলী নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকাকালে ধারালো হাসুয়া দিয়ে তাঁর গলায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি। পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে মেহেরপুরে চলে যান।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সেখানে তিনি দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।