মেহেরপুর জেলার সীমান্তে ৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ৩ কেজি ৯৪১ গ্রাম ওজনের ৩২টি স্বর্ণের বারসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা সীমান্তের নাগারবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসানের কাছে গোপন তথ্য আসে, নাজিরাকোনা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১১০ থেকে আনুমানিক ৭০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নাগারবিল এলাকা দিয়ে স্বর্ণের একটি চালান পাচারের চেষ্টা হতে পারে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অধিনায়কের নির্দেশনায় নাজিরাকোনা বিওপির হাবিলদার মো. শামীমুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টহলদল ওই এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নেয়।

একপর্যায়ে দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে একটি ব্যাগ নিয়ে দুই ব্যক্তিকে সীমান্তের দিকে যেতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় তারা ব্যাগটি ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে ঘটনাস্থল থেকেই দুজনকে আটক করেন। পরে স্থানীয় জনসাধারণের উপস্থিতিতে ফেলে যাওয়া ব্যাগটি তল্লাশি করে ৩২টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর নতুনপাড়া গ্রামের আবু বক্করের ছেলে মো. আসাদুল (৫০) এবং একই গ্রামের মাদারের ছেলে মো. জুয়েল হোসেন (৩০)।

বিজিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা ৩২টি স্বর্ণের বারের মোট ওজন ৩ কেজি ৯৪১ গ্রাম। এসব স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। অভিযানে ৩২টি স্বর্ণের বারসহ দুই পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান, মাদক পাচারসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আটক দুই ব্যক্তিকে মুজিবনগর থানায় হস্তান্তর এবং উদ্ধার করা স্বর্ণ মেহেরপুর ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।