মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা যেমন মানবিকতার পরিচয় বহন করে, তেমনি অসহায় প্রাণীর প্রতি মমতাও মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

সেই মানবিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার আব্দুল খালেক। পেশায় শ্রমিক হলেও প্রতিদিন রাতে নিজের শ্রমে উপার্জিত অর্থ ও সামর্থ্য দিয়ে প্রায় ২০টি কুকুরকে খাবার খাওয়ান তিনি।

উপজেলার খয়রাকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক। প্রতিদিন রাত হলেই খাবার নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। উপজেলার তিনটি নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে কুকুরগুলোকে খাবার দেন। কুকুরগুলোকে খাওয়ানোর পরই বাড়ি ফেরেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাসে কুকুরগুলোর কাছেও হয়ে উঠেছেন পরিচিত ও আপনজন।

কুকুরের প্রতি এমন ভালোবাসার কারণ জানতে চাইলে আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা তো মানুষ। ক্ষুধা লাগলে বলতে পারি, খেতে দাও। কুকুর তো বলতে পারে না যে আমাকে খেতে দাও।’ তাঁর মতে, অবলা প্রাণীগুলো ক্ষুধার কথা কাউকে বলতে পারে না। তাই তাদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলে তাঁর ভালো লাগে।
কথা বলার সময়ও এর প্রমাণ মেলে। পাশ দিয়ে একটি কুকুর যাওয়ার সময় তিনি ‘আয় আয়’ বলে ডাক দেন। সঙ্গে সঙ্গে একে একে অনেক কুকুর তাঁর কাছে ছুটে আসে। কেউ গা ঘেঁষে দাঁড়ায়, কেউ খাবারের অপেক্ষায় থাকে। দৃশ্যটি বলে দেয়, কুকুরগুলোর কাছে আব্দুল খালেক কতটা পরিচিত ও প্রিয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব প্রাণীর খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই কঠিন সময়েও কুকুরগুলোর খাবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন আব্দুল খালেক। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন।
আব্দুল খালেকের কাছে এই কাজ কোনো প্রচার বা প্রশংসা পাওয়ার বিষয় নয়; বরং অসহায় প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রকাশ।

হাসিমুখে তিনি জানান, যত দিন শরীরে শক্তি থাকবে এবং নিজে খাবার খেতে পারবেন, তত দিন কুকুরগুলোকে খাবার খাওয়ানোর এই কাজ চালিয়ে যাবেন।

নিজের সামর্থ্যের মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ২০টি অবলা প্রাণীর মুখে খাবার তুলে দিয়ে আব্দুল খালেক যেন নীরবে শিখিয়ে যাচ্ছেন মানবিকতার এক অনন্য পাঠ।