মামলা চলমান, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, নামজারি খারিজ বাতিলের আবেদনও নাকচ হয়েছে। এর মধ্যেই লাঠিসোটা নিয়ে দলবদ্ধভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে। প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বছর ধরে মোহাম্মদ আলীর ভোগদখলে থাকা জমিটি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রোকেয়া খাতুন বেওয়ার নামে লিখে দেন। জমিতে থাকা দুটি দোকানও দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া দেওয়া ছিল। সেই জমিই হঠাৎ দখল করে নিয়েছে অভিযুক্তরা। অভিযোগ উঠেছে ফরিদুল্লাহ, শহীদুল্লাহ, আবু সাঈদ এবং কাজল মিয়া জমি দখলে নিয়েছেন ।
এ ঘটনায় ফরিদুল্লাহ ও শহীদুল্লাহ এবং তাঁদের ভাতিজা আবু সাঈদ এবং কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, আবু সাঈদ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে জমিটি দখল করেছে। দখলের সময় দলবল নিয়ে লাঠিসোটাসহ বেদখলে অংশ নেয় অভিযুক্তরা। অভিযুক্তদের একজন সাঈদ জানান, ‘আমরা ওয়ারিশসূত্রে এই জমির মালিক তাই দখল করেছি। আমরা যে ১০.৫ শতাংশ জমি দখল করেছি সেটার কাগজপত্র আমাদের নামে।’
বৃহস্পতিবার ০৮ (অক্টোবর)ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিটি দখল করা হয়। ফরিদুল্লাহ ও শহীদুল্লাহ জমির নামজারি খারিজ বাতিলের আবেদন করলেও মোহাম্মদ আলীর মেয়ে মমতাজ বেগমের নামে থাকা খারিজ বাতিল করতে পারেননি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে খারিজ বাতিলের আবেদন নাকচ হয়। যে জমির খারিজ বাতিলের আবেদন নাকচ হয়েছে, সেই জমিই পরে দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
সংশ্লিষ্ট পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিআরএসের আগের আরআরওর রেকর্ডে ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন মোহাম্মদ আলী। পরে তিনি এওয়াজ-বদল দলিলের মাধ্যমে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ জমি আব্দুস সালামকে হস্তান্তর করেন। অন্যদিকে, নূর হোসেনের কাছ থেকে দলিলমূলে ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমি কেনেন ফুলবানু বিবি। পরবর্তী সময়ে ফুলবানু বিবি ওই ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ জমি আব্দুস সালামের কাছে দলিলমূলে হস্তান্তর করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিআরএস রেকর্ডে আব্দুস সালামের ৪২ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে ২৮ শতাংশ এবং ফুলবানু বিবির নামে দলিল থাকা ১৭ দশমিক ৫ শতাংশের বিপরীতে ২৮ শতাংশ লিপিবদ্ধ হয়। এভাবে দলিল ও রেকর্ডে জমির পরিমাণের অসংগতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পক্ষের।
তাঁদের আরও অভিযোগ, ফুলবানু বিবির নামে অতিরিক্ত রেকর্ড হওয়া জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়ের ছেলেদের দাবি থাকলেও তাঁরা নিজেদের দাবির জমির পরিবর্তে মোহাম্মদ আলীর ভোগদখলীয় জমি দখল করেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিআরএসের আগে দলিলমূলে ২৩৮ নম্বর দাগে ফুলবানু বিবি ও আব্দুস সালামের জমি ছিল। কিন্তু আব্দুস সালামের ছেলে কাজল তাঁর বাবার অংশ কম পাওয়ার অভিযোগ তুলে মোহাম্মদ আলীর অংশের জমি দখল করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কাজল ২২৮ ও ২৩৬ দাগে জমি দখল করেন যদিও এই দাগে জমি পাওয়ার মত তাদের কোনো কাগজপত্র নাই।
বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রায় ১৫ বছর ধরে দুটি দোকান চালু ছিল বলে দাবি মোহাম্মদ আলীর পরিবারের। এর একটিতে ইয়াসিন নামের এক ব্যক্তি মনোহারি ব্যবসা করতেন। বর্তমানে তিনি পাশের একটি দোকানে ব্যবসা করছেন। অন্যদিকে, হযরত নামের এক ব্যক্তি জমির পেছনে একটি গোডাউন নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে; সেটি এখনো রয়েছে। ব্যবসায়ী ইয়াসিন মিয়া বলেন, ‘এই জায়গায় ৭ থেকে ৮ বছর ব্যবসা করেছি আমি। ভাড়া দিতাম মমতাজ বেগমকে’।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। শুনানি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’।