ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভায় নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ দাবি এবং বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পৌর প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় সচেতন নাগরিক। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগ।
রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পর্যন্ত পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা গেছে।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আসমা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ের জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভায় ঘুরতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
ইমতিয়াজ আহমেদ নামে আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, জমি খারিজের জন্য ওয়ারিশান সনদ নিতে তিনি কয়েক দিন ধরে পৌরসভায় যাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, একজন দালাল দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা দাবি করেছেন।
আরেক বাসিন্দা শাহীন মিয়া অভিযোগ করেন, পৌরসভার বিভিন্ন সেবা পেতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে এবং দালালের মাধ্যমে অর্থ দিলে কাজ সহজে হওয়ার কথা তাঁকে বলা হয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, পৌরসভার কিছু সেবা পেতে দালালনির্ভরতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক। তাঁদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মশা নিধন কর্মসূচিতে নিম্নমানের ওষুধ কেনা, বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, ভূমি হস্তান্তর করের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মতো বিষয়।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নিরীক্ষা প্রতিবেদন, তদন্ত প্রতিবেদন বা অন্য কোনো সরকারি নথি প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, পৌরসভার প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, মশা নিধন কার্যক্রমে ব্যয় হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্প ও কেনাকাটার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ঈশ্বরগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিচালিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে ওই কর্মসূচিতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে পৌর প্রশাসক সালাহউদ্দিন বিশ্বাসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোর দায় নিজের ওপর না নিয়ে পৌর প্রশাসকের বিষয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত রেকর্ড করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) উম্মে হাবিবা মীরা বলেন, “ইতিমধ্যে বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সব বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা পৌরসভার নাগরিক সেবা সহজীকরণ, দালালনির্ভরতা বন্ধ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।