ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নামজারি ও খারিজের কাজে হয়রানি, ঘুষ দাবি এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন সেবাপ্রার্থীর দাবি, অর্থ না দিলে তাঁদের ফাইল আটকে রাখা হয় এবং দালালের মাধ্যমে অর্থ দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস। তিনি দাবি করেছেন, ভূমিসেবা কার্যক্রম নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সরেজমিনে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে কয়েকজন সেবাপ্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা যায়। তাঁদের কেউ কেউ দালালের দৌরাত্ম্য এবং অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানির অভিযোগ করেন।

তারুন্দিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, ১৩ শতাংশ জমি নামজারি-খারিজের জন্য তিনি প্রায় এক মাস ধরে ভূমি অফিসে ঘুরছেন। এখনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাননি বলে দাবি তাঁর।

উচাখিলা এলাকার স্কুলশিক্ষিকা আম্বিয়া খাতুনও নামজারি-খারিজ সংক্রান্ত জটিলতার অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, জমির কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি জমি বিক্রি করতে পারছেন না এবং এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে অর্থ না দিলে ফাইল এগোয় না। তাঁদের দাবি, সাধারণ সেবাপ্রার্থীদের একটি অংশকে বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রাখা হয়।

রাতে বাসায় সরকারি নথি নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাসের বাসায় নামজারি-সংক্রান্ত সরকারি নথি নেওয়ার একটি ঘটনাকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে।

রমজান নামের একজন নাইটগার্ড রাতে ওই নথি নিয়ে এসিল্যান্ডের বাসায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বাসায় ফাইল নিয়ে যাওয়ার কথা জানান।

তবে ঘটনাটি সম্পর্কে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাসের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ভিন্নতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রথমে তিনি ওই নাইটগার্ড তাঁর বাসায় বাজার নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান। পরে তিনি দাবি করেন, একজন ক্যানসার আক্রান্ত ব্যক্তির ফাইল মানবিক কারণে স্বাক্ষরের জন্য বাসায় নেওয়া হয়েছিল।

একই ঘটনার বিষয়ে দুই ধরনের ব্যাখ্যা এবং সরকারি নথি রাতে কার্যালয়ের বাইরে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে দাপ্তরিক স্বচ্ছতা ও নথি ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে নথি বাসায় নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়।

উল্লেখ্য, উপজেলা ভূমি অফিসের সরকারি ওয়েবসাইটে সালাউদ্দিন বিশ্বাসকে ঈশ্বরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ২০ জুলাই এ পদে যোগ দেন।

এর আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসকে ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলার মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তিতে প্রথম অবস্থানে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। সে সময় সালাউদ্দিন বিশ্বাস ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও হয়রানি দূর করার কথা জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, চলতি অক্টোবরেও নামজারি কার্যক্রমের সূচকে ঈশ্বরগঞ্জের অবস্থান নিয়ে স্থানীয় সংবাদ প্রকাশের পর সালাউদ্দিন বিশ্বাসের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথোপকথন নিয়ে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমান অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিন বিশ্বাস বলেন, ভূমি অফিসের সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ সঠিক নয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভূমিসেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।