গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সড়কের বড় অংশ ধসে পড়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কাজীর বাজার-আমতলী থেকে বাদিয়াখালী সড়কের পুটিমারী চৌরাস্তায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিটার পাকা সড়ক ধসে গেছে। এতে সড়কটির প্রস্থের বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে যাওয়া অংশের পাশ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে সড়কটিতে ধসের ঘটনা ঘটে। তাঁদের অভিযোগ, পুটিমারী গ্রামের বাসিন্দা আজিজ মিয়া ও তাঁর ছেলে রাস্তার পাশের নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণের ভিত্তি তৈরির জন্য মাটি কাটায় সড়কের পাশে ধস সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি কাজীর বাজার, কুমেদপুর বাজার, মিয়ার হাট ও বাদিয়াখালী হাটসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ সড়ক ব্যবহার করে ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার মানুষও চলাচল করেন। প্রতিদিন রিকশা, ভ্যান, পিকআপ, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে সড়কটিতে।
এলাকাবাসী আরও জানান, সড়কের আশপাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধসে যাওয়া অংশের কাছেই রয়েছে একটি বাজার। ফলে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পরিদর্শন করলেও এখনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। এতে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় দোকানদার সুরুজ মিয়া বলেন, “প্রায় চার-পাঁচ মাস ধরে সড়কটির অর্ধেকের বেশি অংশ ধসে পড়ে আছে। প্রতিদিনই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “ধসে যাওয়া সড়কটি সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করে সড়কটি নিরাপদ চলাচলের উপযোগী করা হোক।