ডাকাতি হওয়া গরু উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গরু ব্যবসায়ীরা। বুধবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার কদিমকাকনা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী মো. বুদ্দু শেখ বলেন, গত ৮ আগস্ট তারা পাঁচ ব্যবসায়ী পঞ্চগড় থেকে কেনা ২৯টি গরু নিয়ে ট্রাকে করে ফিরছিলেন। ওই রাতে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার কাছাকাছি ভুয়াগাতি ওভারব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি ট্রাকটির গতিরোধ করেন।
বুদ্দু শেখের অভিযোগ, এ সময় ডাকাতরা ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের মারধর করে হাত-পা বেঁধে সড়কের পাশে ফেলে রেখে গরুবোঝাই ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাদের একজন কৌশলে দাঁত দিয়ে হাতের বাঁধন খুলে অন্যদের মুক্ত করেন। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, গরুগুলো গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বুদ্দু শেখ বাদী হয়ে ৯ আগস্ট সাদুল্যাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, মামলার পর পুলিশ বিভিন্ন সময়ে ১৬টি গরু উদ্ধার এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এখনও ১৩টি গরু উদ্ধার হয়নি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুল ইসলাম আসামিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করছেন না। তবে এ অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কোনো নথি বা প্রমাণ উপস্থাপনের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ভুক্তভোগী বুদ্দু শেখ বলেন, বাকি ১৩টি গরু দ্রুত উদ্ধার এবং ডাকাতির সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। এ সময় তিনি বাকি গরু উদ্ধারে পাঁচ লাখ টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়ার কথাও জানান।
এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।