গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি শিয়াল একে একে তাঁদের কামড় দেয়। আহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের কয়েকজনের মুখ, ঠোঁট ও কপালে গুরুতর ক্ষত হয়েছে। রাবেয়া বেগম ও লিলি বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান সোমবার সকালে মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আহতরা হলেন—জিগাবাড়ী গ্রামের মুকুল মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৩৮), তাঁর ছেলে রাকিবুল হাসান (১৩), ইয়াকুব আলীর ছেলে এনামুল হক (২৬), আব্দুল আহাদ আলীর মেয়ে আয়শা আক্তার (৩) এবং মো. আব্দুর রহিমের ছেলে হাসান মিয়া (৭)।
এ ছাড়া তালুক বেলকা গ্রামের জমশের আলীর স্ত্রী লিলি বেগম (৩৫), মৃত কামাল উদ্দিনের ছেলে সাদেক হোসেন (৭০), আব্দুল হান্নান মিয়ার স্ত্রী আফরুজা বেগম (৩৭) এবং শফিউল ইসলামের ছেলে শাওন মিয়া (৬) আহত হয়েছেন।
লোকালয়ে ঢুকে একে একে নয়জনকে কামড়
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় একটি শিয়াল হঠাৎ লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। পরে পথচারী ও বাড়ির আশপাশে থাকা লোকজনকে একে একে কামড়াতে থাকে। এতে নয়জন আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত লিলি বেগমকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লিলি বেগম মোবাইল ফোনে জানান, জমির আইলের কাছে তাঁদের প্রতিবেশী সাদেক হোসেনকে শিয়ালটি কামড়াচ্ছিল। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শিয়ালটি তাঁর কপালে কামড় দিয়ে মাংস ছিঁড়ে নেয়। একই ঘটনায় সাদেক হোসেনের গাল ও কপালেও কামড়ের ক্ষত হয়েছে। পরে দুজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আতঙ্কের পর শিয়ালটি পিটিয়ে মারার দাবি
শিয়ালের কামড়ে একের পর এক মানুষ আহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন শিয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন বলে জানা গেছে।
তবে শিয়ালটি বন্য, পাগলা বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না, তা পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এ ধরনের ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদিয়া স্নিগ্ধা বলেন, শিয়ালের কামড়ে আহত নয়জনকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের মুখ, ঠোঁট ও কপালে কামড়ের ক্ষত রয়েছে।
তিনি বলেন, রাবেয়া বেগমের অবস্থা গুরুতর। লিলি বেগমের কপালেও বড় ক্ষত হয়েছে এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বন্যপ্রাণীর আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লোকালয়ে শিয়ালটি কীভাবে ঢুকেছিল এবং সেটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।