সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে হাঁস নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারী ও তাঁর মেয়েকে মারধর এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জামির আলী (৬৫)।

অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বাঘা গ্রামের মো. শামীমের স্ত্রী স্বপ্না বেগম (৩৫), একই গ্রামের কাচা মিয়ার ছেলে মো. শামীম (৪৫) এবং তাঁর দুই ছেলে মো. মেহেদী (২১) ও মো. তামিম (১৯)-কে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঘা গ্রামের অভিযুক্তদের বাড়িতে হাঁস নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।

জামির আলীর অভিযোগ, তাঁর মেয়ের পালিত হাঁস অভিযুক্তদের বাড়িতে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর মেয়ে ও নাতনিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তাঁর মেয়ে ও নাতনির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও জখম হয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সময় তাঁদের গলায় থাকা দুটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে চেইন দুটির আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত সানজিদাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

জামির আলী আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাঁদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. শামীম মিয়া বলেন, সানজিদাকে মারধরের ঘটনা তিনি স্বীকার করলেও এর পেছনে তাঁর ছেলে মেহেদী হাসানকে মারধরের ঘটনা রয়েছে। তাঁর দাবি, সানজিদা তাঁর ছেলের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। ওই সময় সানজিদার সঙ্গে আরও দুজন পুরুষ ছিলেন এবং তাঁরা মিলে তাঁর ছেলেকে মারধর করেছেন। বর্তমানে তাঁর ছেলে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শামীম মিয়া আরও বলেন, “তাঁরা আমার ফার্মে গিয়ে পাঁচ-ছয়টি হাঁস হাতে নিয়ে নেন। বিষয়টি আমার স্ত্রী দেখে বাধা দিলে এ নিয়ে ঝামেলা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা রোগী সুস্থ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বসার পরামর্শ দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহমদ উল্লাহ ভূইয়া বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে।”