দীর্ঘ ২ বছর পর আবারো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে ঐতিহাসিক নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গত শনিবার বিকেলে এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে শুখরিত হয় তিতাস পাড়। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে নদী তীরে জমায়েত হয় লাখো মানুষ।
নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার নৌকা এবং তৃতীয় হয় নবীনগর উপজেলার নৌকা। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের নগদ টাকা ও ট্রফি উপহার দেওয়া হয়।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও দর্শনার্থীদের ভীড় জমে দুপুরের আগ থেকেই। প্রতিযোগিতা শুরুর পর নদীর দুইতীর লোকারণ্য হয়ে উঠে।
শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকা পর্যন্ত অংশে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ভরা তিতাসে এই আয়োজন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রাণের উৎসব। এর আমেজ ছড়িয়ে পড়ে জেলার সর্বত্র। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন নৌকা বাইচ উপভোগ করতে।
তিতাসের বুকে বাহরী রঙের নৌকার মাঝিদের বৈঠা গর্জে উঠার সাথে সাথে উত্তেজনায় ফেঁটে পড়েন তিতাস পাড়ের দর্শনার্থীরা।
বাইচ দেখতে আসা ইতালি প্রবাসী রনি আলম বলেন, নৌকা বাইচ আমাদের প্রাণের উৎসব৷ আমি ঢাকায় ছিলাম। বাইচ দেখতে আজ সকালে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এসেছি। নদীর দুইপাড়ে মানুষের উচ্ছাসই প্রমান করে এটি আমাদের প্রাণের উৎসব। সকল ক্লান্তি দূও হয়েছে এই আনন্দ উৎসবে এসে।
আরেক দর্শনার্থী আল আমিন শাহীন বলেন, নৌকা বাইচকে ঘিরে তিতাসপাড়ের মানুষের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আজ উৎসব মুখর। আমরা আনন্দিত। আমরা চাই প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হোক।
জেলা প্রশাসক মোঃ আবুসাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর আরো জমজমাটভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির নির্বাহী কমিটির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জাতীয় সংসদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নীতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংস্কৃতির রাজধানী। নৌকা বাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যেরই অংশ। মানুষ চায় প্রতিবছর নৌকা বাইচ হোক। আমরা আশা করি আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে এটি আয়োজন করতে পারব।
বিকেল ৬টার সময় মেড্ডায় তিতাস নদীর পাড়ে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
জেলা প্রশাসক মোঃ আবু সাঈদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আব্দুর রউফ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি।