নেত্রকোনার মদনে বাবাকে ধারালো বটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ইয়াছিন মিয়ার (২০) বিরুদ্ধে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মদন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশকিপাড়ায় নিজ বাড়ির রান্নাঘরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ইয়াছিনকে আটক করেছে।

নিহত এলাহি মিয়া (৬৫) মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের শিবপাশা গ্রামের মাঝপাড়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে তাঁর পরিচয় কুন্ডু মিয়া ওরফে এলাহি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে রান্নাঘরে চা তৈরি করছিলেন এলাহি মিয়া। এ সময় তিনি ছেলে ইয়াছিনকে চা খাওয়ার জন্য ডাকেন। একপর্যায়ে ইয়াছিন ঘরে থাকা ধারালো বটি দিয়ে বাবাকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।

গুরুতর আহত অবস্থায় এলাহি মিয়াকে স্বজনেরা উদ্ধার করে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর ইয়াছিনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়াছিন কয়েক দিন ধরে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছিলেন না। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং এর আগে তাঁর চিকিৎসাও করানো হয়েছে।

নিহতের পুত্রবধূ জেরিন আক্তার বলেন, এলাহি মিয়া ফজরের নামাজ শেষে বাড়িতে এসে চা তৈরির জন্য রান্নাঘরে যান। পরে তিনি ইয়াছিনকে চা খেতে ডাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই ইয়াছিন তাঁর বাবাকে ধারালো বটি দিয়ে আঘাত করেন বলে তিনি জানান।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন করিম বলেন, ইয়াছিন গত দুই দিন ধরে ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করেননি বলে জানা গেছে। বুধবার সকালে বাবাকে চা খেতে বলার পর তিনি পেছন থেকে এলাহি মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় ইয়াছিনকে আটক করা হয়েছে।

ইয়াছিন মানসিক রোগী কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। পুলিশ এ বিষয়ে যাচাই করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ ও হামলার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।