ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর সাথী আক্তার (৩৮) হত্যা মামলায় হৃদয় (২৫) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। আদালতের অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. সামছুদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আনোয়ার আজিজ টুটুল রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আসামি হৃদয়কে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট হয়েছে বলেও আদালতকে তারা জানিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ মার্চ মোবাইল ফোনে একটি ‘মিসড কল’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাথী আক্তারের বড় বোনের সঙ্গে আসামি হৃদয়ের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে হৃদয় ও তার সহযোগীরা আকুয়া জুবলী কোয়ার্টারের ভাড়া বাসায় গিয়ে তাদের হুমকি ও মারধর করে।
এর জেরে ২৩ মার্চ দিবাগত গভীর রাতে হৃদয় ও তার সহযোগীরা সাথী আক্তারের বাসায় যায়। সাথী দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায় তারা। গুরুতর রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই সাথী আক্তারের মৃত্যু হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় ২৪ মার্চ ২০২২ নিহতের ছোট বোন মোছা. শিউলী বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় হৃদয়সহ আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে মঙ্গলবার আদালত হৃদয়কে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। রায়ে আসামির মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের টাকা আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করে নিহতের পরিবারকে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।##
