সুনামগঞ্জে এডুকেয়ার কোচিং সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এডুকেয়ার মেধা বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬-এর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সুনামগঞ্জ শহরের বক পয়েন্ট সংলগ্ন সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেধা বৃত্তি অর্জনকারী ৪৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে সুনামগঞ্জে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ মেধা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে ৪৩ জনকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এডুকেয়ার কোচিং সেন্টারের শিক্ষক ও তরুণ কবি মহিউদ্দীন আবির।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিন্টু দেবনাথ। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রাইম কোচিং সেন্টারের পরিচালক মুহাম্মদ ছালিক আহমদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এডুকেয়ার কোচিং সেন্টারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট হিমু দাশ রায়, সুনামগঞ্জ শাখা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার ও এডুকেয়ার কোচিং সেন্টারের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক প্রত্যয় ভট্টাচার্য নিপুন এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ও এডুকেয়ার কোচিং সেন্টারের শিক্ষক শরিফ আহমেদ মানিক।
বক্তারা মেধা বৃত্তি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, একটি বৃত্তি শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর মেধা, পরিশ্রম ও সম্ভাবনার স্বীকৃতি। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করে।
তারা বলেন, শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সততা ও সামাজিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল নয়, একজন শিক্ষার্থীর প্রথম পরিচয় হওয়া উচিত একজন ভালো মানুষ হিসেবে। মেধা ও মননশীলতার পাশাপাশি সততা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শামীম আহমেদ ও সুরজিৎ তালুকদার। তারা এডুকেয়ার মেধা বৃত্তি পরীক্ষার সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছ আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজনের আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে মেধা বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মেধার স্বীকৃতি একজন শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে এডুকেয়ার কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও এডুকেয়ার মেধা বৃত্তির পরিচালক উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এডুকেয়ার মেধা বৃত্তির কার্যক্রম ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। সময়ের সঙ্গে এ আয়োজনকে আরও বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পরে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪৩ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা সনদ ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কার গ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।