কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার গোবর্ধন দোলা খালের ওপর প্রায় তিন দশক আগে নির্মিত সেতুটি এখন স্থানীয়দের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সেতুর পাটাতন ও রেলিং ভেঙে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ঢালাই উঠে যাওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন অন্তত সাত গ্রামের মানুষ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার মানুষ এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করেন। এর মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, বৃদ্ধ ও শিশুরাও রয়েছেন। সেতুর রেলিং না থাকায় সামান্য অসতর্কতাতেই খালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পাটাতনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। মাঝখানের ঢালাইও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পিলারের বিভিন্ন অংশ থেকে সিমেন্ট খসে পড়েছে। ফলে ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে একটি গরু সেতু থেকে খালে পড়ে মারা যায়। এর আগেও রেলিং না থাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থী সাইকেলসহ খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর সেতুটি দিয়ে চলাচল আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে।

এদিকে সেতুটির ওপর দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহনেও চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকরা। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচলে সমস্যা হওয়ায় উৎপাদিত কৃষিপণ্য হাটবাজারে নিতে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে বলে জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস আলী, মাহফুজার রহমান ও আপেল মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেতুর পিলারসহ বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত জরাজীর্ণ সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির দুরবস্থার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রদীপ কুমার বলেন, “সেতুটির প্রস্তাবনা তালিকায় রয়েছে। দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সাত গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত সেতুটির সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ চান স্থানীয়রা।