শেরপুরের নকলা উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পে বরাদ্দের মধ্যে অব্যয়িত ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাঠাকাটা ইউনিয়নের বুরোডুবি কামরুলের বাড়ির সামনে থেকে গোদাডাঙ্গা হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত খালটি পুনঃখনন করা হয়। প্রকল্পটির মোট বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় খালের দুই পাশে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া ৬০ মিটার প্যালাসাইডিং, ৫০ মিটার রিং কালভার্ট, ৫০ মিটার আরসিসি এবং ১৬৭ মিটার ইউপিভিসি পাইপের মাধ্যমে ইউ-ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২১৬ জন শ্রমিক কাজ করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, স্থানীয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করার কারণেই অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুনঃখনন করা খালটি পাঠাকাটা ইউনিয়নের প্রায় ১ হাজার একর কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগে এসব জমির অনেকটিতে এক ফসল হতো; এখন দুই ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার কৃষক উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খাল পুনঃখনন সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমগুলোর একটি। নকলা উপজেলার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর স্থানীয় মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।

তিনি আরও বলেন, খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য ও নান্দনিকতা রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং দেশীয় মাছের উপস্থিতিও দেখা যাচ্ছে। বর্ষায় খালের মাধ্যমে পানি দ্রুত নদীতে নামতে পারলে জলাবদ্ধতা ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকটও কমতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু খনন করলেই প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না। খালটি দখল ও দূষণমুক্ত রাখা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পানি চলাচলের পথ সচল রাখা জরুরি। তা না হলে কয়েক বছর পর আবারও খাল ভরাট হয়ে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত

সরকারি প্রকল্পে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন করে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হলে তা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ইতিবাচক উদাহরণ হতে পারে। তবে প্রকল্পের প্রকৃত ব্যয়, কাজের পরিমাণ ও মান যাচাইয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন ও হিসাব নিরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুনঃখনন করা খালটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও স্থানীয় জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি প্রকল্পেও বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয়, কাজের মান নিশ্চিত এবং অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরতের মতো জবাবদিহিমূলক চর্চা অব্যাহত থাকবে।