বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত ছয় মাসের বিভিন্ন উদ্যোগ, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, অংশগ্রহণমূলক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে রাজনৈতিক হয়রানি হয়নি এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অর্থনীতি ও কৃষি:
সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান মাহদী আমিন। এতে ১৩ লাখ কৃষক পরিবার সুবিধা পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কৃষক কার্ড, নারীদের ফ্যামিলি কার্ড ও প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড চালুর কথাও তুলে ধরেন তিনি। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ৬০টির বেশি পণ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগের কথাও জানান।
জ্বালানি খাত:
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে গ্যাস সংকট সমাধানে অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা:
প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা এবং দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের এক লাখ টাকা করে সহায়তার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
শিক্ষা খাতে আগামী বছর থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন বিষয় যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই, স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসন:
মাহদী আমিনের দাবি, রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত সেবামূলক পুলিশ ও প্রশাসন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রতিবেশী দেশের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রনীতি:
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির অবসান ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে মাহদী আমিন বলেন, সরকারপ্রধান ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মেগা প্রকল্পে ব্যয় ও দুর্নীতি কমানো, পরিবেশবান্ধব প্রকল্প গ্রহণ, বন্ধ কলকারখানা চালু, বন্দরগুলো ২৪ ঘণ্টা সচল রাখা এবং রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগও তুলে ধরা হয়।