মেহেরপুরের গাংনীতে এসএসসি পরীক্ষায় পরপর দুইবার ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর রামিদুজ্জামান টুটুল মিয়া (১৭) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের কোদালকাটি গ্রামের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।

নিহত টুটুল কোদালকাটি গ্রামের শ্রমিক মিন্টু মিয়ার ছেলে। সে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল এবং ওই বিদ্যালয় থেকেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে টুটুল ঘুম থেকে না ওঠায় তাঁরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতরে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সকাল ৮টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, টুটুল ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পর ২০২৬ সালের পরীক্ষাতেও একই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে বকাঝকা করেছিলেন। এরপর অভিমান থেকে সে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন।

তবে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, পরিবারের সঙ্গে টুটুলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ ও অশান্তি হতো। তার চলাফেরা নিয়েও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিরোধ ছিল। ফলে মৃত্যুর পেছনে শুধু পরীক্ষার ফলাফলই কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী জানান, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। ফলে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফল পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

ঘটনাটি আবারও পরীক্ষার ফলাফল, পারিবারিক চাপ এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসিক সংকটের বিষয়টি সামনে এনেছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফল নিয়ে চাপ প্রয়োগের পরিবর্তে ব্যর্থতার কারণ বোঝা, পুনরায় সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।