ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অনুমোদন ছাড়াই গভীর রাতে বিদ্যুতের খুঁটি স্থানান্তরের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের সন্দেহ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে কাজ করা কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও খুঁটি স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বড়জোড়া গ্রামের ধ্বংসের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় আনোয়ার হোসেন জানান, তাঁর বাড়ির সামনে খালি জায়গায় থাকা পল্লী বিদ্যুতের একটি খুঁটি সরানোর জন্য প্রায় চার মাস আগে তিনি ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। তখন তাঁকে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে বলা হয়।

আনোয়ারের দাবি, পরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান পরিচয়দানকারী তছলিমের (আইডি নং-৬০১০) সঙ্গে তিনি খুঁটি স্থানান্তরের বিষয়ে কথা বলেন। তছলিম তাঁকে জানান, অফিসে আবেদন করে নিয়ম অনুযায়ী খুঁটি সরাতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগতে পারে এবং খরচ হবে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তবে ২০ হাজার টাকা দিলে অফিস ‘ম্যানেজ করে’ দ্রুত খুঁটি সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

আনোয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে দুই কিস্তিতে তছলিমকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, টাকা নেওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে তছলিম ৮ থেকে ১০ জন লোক নিয়ে এলাকায় আসেন। রাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে গোপনে খুঁটি স্থানান্তরের কাজ শুরু করা হয়।

এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বড়জোড়া গ্রামের বাসিন্দা ফখরউদ্দিন ভূঁইয়া সন্ধ্যার পর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের কারণ জানতে অফিস থেকে লাইনম্যান মাসুদ রানা ও লাইন টেকনিশিয়ান মৃদুল জোয়ারদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

তাঁরা সেখানে গিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখে একটি খুঁটি স্থানান্তরের কাজ চলতে দেখেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি অফিস কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে ফিরে যান।

পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করলে সাংবাদিকদের খবর দেওয়া হয়। সাংবাদিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে কাজ করা কয়েকজন ব্যক্তি অন্ধকারের মধ্যে দৌড়ে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় নুরুজ্জামান নামে একজন সেখানে থেকে যান।

নুরুজ্জামান নিজেকে গৌরীপুর উপজেলার চরশ্রীরামপুর গ্রামের হাতেম ক্বারীর ছেলে এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ঠিকাদারদের ফ্লোরম্যান হিসেবে পরিচয় দেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের রুহুল আমিন তাঁকে ওই কাজে নিয়ে এসেছিলেন। তবে কাজটির অনুমোদন রয়েছে কি না—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। পরে তিনিও ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে রুহুল আমিন বলেন, ইলেকট্রিশিয়ান তছলিম তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে তিনি কাজটি অনুমোদনহীন বলে জানতে পারেন। পরে লোকজন আসার বিষয়টি টের পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে যান বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে তছলিম দাবি করেন, রুহুল আমিনই তাঁকে ওই কাজে নিয়ে গিয়েছিলেন। আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আনোয়ার সরাসরি নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। টাকা লেনদেনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম কাউসার মোহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ একটি মোটরসাইকেল ও খুঁটি স্থানান্তরের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে থানায় নিয়ে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম অনিতা বর্ধন বলেন, ছুটির দিন থাকায় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন না। তবে ঘটনাটি শুনেছেন। জিএমের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর জিএম নূর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটিতে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে অর্থ নিয়েছেন কি না, খুঁটি স্থানান্তরের কাজের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন এবং তাদের কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।