হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান নির্ধারণে কাজ চলছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (পিটিআই) ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখা দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এসব অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যায় না, ফলে অন্য জেলা বা এলাকার শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু বাস্তবে অনেকেই দুর্গম এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে অনাগ্রহী হওয়ায় শূন্যপদ সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, “হাওর অঞ্চলের মতো ক্যাচমেন্ট (অববাহিকা) এলাকায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিছু এলাকায় উপযুক্ত শিক্ষক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সুনামগঞ্জেও এই সমস্যা রয়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানে কাজ করছি, তবে কার্যকর সমাধান বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে।”

স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে কঠোর নজরদারি

স্কুল ফিডিং কর্মসূচির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচি শুরুর দিকে বিভিন্ন স্থানে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এসব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখন মান নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খাদ্য প্রযুক্তিবিদ (ফুড টেকনোলজিস্ট) নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাদের অনুমোদনের পরই খাদ্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হবে। পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা উৎপাদনকারী কারখানায় আকস্মিক পরিদর্শন করবেন এবং খাদ্যের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে মান যাচাই করা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি বিদ্যালয়ে অভিভাবক, বিশেষ করে মায়েদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি খাবার গ্রহণের সময় প্রাথমিক মান যাচাই করবে। এছাড়া খাদ্য সরবরাহকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় তথ্য বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেসব এলাকায় এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, সেখানে ত্রুটির হার প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এরপরও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মতবিনিময় সভা

এর আগে পিটিআই ভবনে আয়োজিত প্রধান শিক্ষকদের মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি প্রকল্পের পরিচালক আবুল আমিন, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস।

সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।