মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করায় বাংলাদেশে জ্বালানি ভর্তুকির চাপ দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান মূল্য কাঠামো অপরিবর্তিত থাকলে, শুধু ডিজেল ও অকটেন সরবরাহে আগামী ছয় মাসে সরকারের ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), যা দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের দায়িত্বে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১০০ টাকার বেশি এবং অকটেনে ৩০ টাকার বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে।

গত কয়েক বছর তুলনামূলক কম দামের সুবিধায় বিপিসি ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করেছিল। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সংস্থাটি প্রায় ৪ হাজার ২১৬ কোটি টাকা লাভ করে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই আর্থিক স্বস্তি দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে।

বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৭ ডলার থাকলেও তা বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। একইসঙ্গে পরিশোধিত জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেলের দামও তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য অপরিবর্তিত রাখায় ভর্তুকির পরিমাণ দ্রুত স্ফীত হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিপিসি প্রায় ২৪ লাখ টন ডিজেল এবং ২ লাখ টনের বেশি অকটেন সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্তমান দামে এই সরবরাহ বজায় রাখলে ডিজেলেই সম্ভাব্য লোকসান প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সরকার আপাতত জ্বালানির মূল্য না বাড়ানোর অবস্থান ধরে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ভবিষ্যতে মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভর্তুকি স্বল্পমেয়াদে ভোক্তাদের স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।