তিস্তা মহাপরিকল্পনার সম্ভাব্য বাস্তবায়ন ও কারিগরি প্রস্তুতি পর্যালোচনার অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা, প্রকৌশলী এবং কর্মকর্তারা তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তারা জানিয়েছেন, কারিগরি মূল্যায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) কাছে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুক্রবার প্রতিনিধি দলটি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে তিস্তা ব্যারেজ, সেচ ক্যানেল, নদীভাঙনকবলিত এলাকা এবং নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করে। এ সময় তারা নদীর প্রবাহ, ভাঙন পরিস্থিতি, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং ৯ সদস্যবিশিষ্ট প্রকৌশলী দল
পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানান, প্রকল্পের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে এবং পরবর্তী অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, তিস্তা অববাহিকায় পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ থাকলেও চূড়ান্ত কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নের আগে নির্দিষ্ট ব্যয় নির্ধারণ করা হবে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় দেশের প্রকৌশলী, পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সমন্বয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মূল্যায়ন শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পটির চূড়ান্ত অনুমোদন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আসার পরই এর ভবিষ্যৎ অগ্রগতি স্পষ্ট হবে।
