চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, মাদকের প্রভাবে এক শ্রেণির তরুণ ও যুবক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবন ও মাদক বেচাকেনার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, মাদকের কারণে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে।

কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, মাদকাসক্তির কারণে তাদের সন্তানদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তারা মাদক সরবরাহকারী ও কারবারিদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক নজরদারি এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান পাটওয়ারী বলেন, “মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। আমরা বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছি। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, “সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মাদক নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “মাদক প্রতিরোধ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় নিয়মিত আলোচিত হচ্ছে। প্রশাসন মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সফলতা পেতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরদার করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব হবে।