ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে নেওয়া হবে না— সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ali Khamenei-এর এমন কঠোর অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়।
ইরানের নেতৃত্ব মনে করছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হলে দেশটির কৌশলগত নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়বে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখে এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান।
দীর্ঘদিন ধরে United States, Israel এবং পশ্চিমা দেশগুলো অভিযোগ করে আসছে যে, ইরান উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। যদিও Iran বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে ইরান ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে বলে পশ্চিমা সূত্রের দাবি। এটি অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার কাছাকাছি হওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, যেকোনো সম্ভাব্য সমঝোতায় ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত বিদেশে সরিয়ে নিতে হবে।
অন্যদিকে Benjamin Netanyahu স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েল পরিস্থিতিকে নিরাপদ মনে করবে না।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, যুদ্ধবিরতির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফলে আলোচনার পরিবেশ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এদিকে Donald Trump আবারও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগও খোলা রেখেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম মজুত ইস্যু এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান একে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখছে, আর ওয়াশিংটন এটিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে সমঝোতার পথ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
