ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা (গার্ড অব অনার) ও দাফন নিয়ে সৃষ্ট বাধার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি থেকে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফসিউর রহমান হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার জাকির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা ওয়াসেল সিদ্দিকী, তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন, আসরাবুর নবী মোবারক, ডেপুটি কমান্ডার মজিবুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা মোবাউল হক ফরিদ, পৌর কমান্ডার জয়নাল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক বিপ্লব ও যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জাকারিয়াসহ মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।
মানববন্ধনে বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। তাঁরা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অবদান রেখেছেন। অথচ মৃত্যুর পর তাঁর প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বাধার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
বক্তারা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। তাঁদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা, প্রতিবন্ধকতা কিংবা অসম্মান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ সময় তাঁরা মানিক পশারীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মানিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
