শিশু অধিকার, শিশুশ্রম প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা ও শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের (International Children’s Peace Prize) মনোনীতদের তালিকায় স্থান পাওয়ার দাবি করেছেন চুয়াডাঙ্গার তরুণ শিশু অধিকারকর্মী ও সংগঠক ইবনে ইউসুফ আল সাফিন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সাফিন জানান, ‘শিশুশ্রম’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে মনোনীতদের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। এ স্বীকৃতি তাঁকে শিশুশ্রম বন্ধ, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে আরও উৎসাহিত করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাফিন লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ। ‘শিশুদের নোবেল’ খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৬-এর ‘শিশুশ্রম’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে মনোনীতদের তালিকায় আমিও স্থান পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁকে শিশুশ্রম বন্ধ, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে তিনি সবার দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করেন।

চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাফিন। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশু অধিকার, শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি যুক্ত রয়েছেন। যুব সংগঠন, বিতর্কচর্চা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সাফিনের সংশ্লিষ্টতার মধ্যে রয়েছে জাতীয় শিশু টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ), চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব। শিশু অধিকার, শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি এ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কাজ করছেন।

এ ছাড়া ডিবেট ক্লাব অব চুয়াডাঙ্গার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিতর্কচর্চা ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে যুক্ত আছেন তিনি। ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ-এর চুয়াডাঙ্গা জেলা বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে তাঁর দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতিসংঘ যুব ও শিক্ষার্থী সমিতির সহযোগী সদস্য হিসেবেও যুব ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন তিনি।

শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাফিনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া প্রতিরোধে আলোচনা ও সচেতনতা সেশন, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে প্রচার এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা।

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার শিশুদের অধিকার রক্ষা ও তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করা তরুণদের স্বীকৃতি দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক KidsRights Foundation প্রতিবছর এ পুরস্কারের আয়োজন করে। বিভিন্ন দেশের শিশু ও তরুণদের শিশু অধিকার, মানবাধিকার, শিক্ষা, শান্তি ও সামাজিক পরিবর্তনে অবদানের বিষয়টি এ পুরস্কারের মাধ্যমে সামনে আনা হয়। গণমাধ্যমে পুরস্কারটি প্রায়ই ‘শিশুদের নোবেল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সাফিনের মনোনয়ন সত্যিই KidsRights-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের আনুষ্ঠানিক মনোনীত তালিকায় রয়েছে কি না—তা সংস্থাটির অফিসিয়াল তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত করা জরুরি। যাচাই নিশ্চিত হলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গার একজন তরুণের শিশু অধিকারভিত্তিক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিষয়টি নিঃসন্দেহে স্থানীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।