ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আলোচিত শিশু মাহিদা আক্তার-(৭) ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্বজনরা। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত চত্বরে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে নিহত শিশু মাহিদার মা মনিরা আক্তারসহ পরিবার-পরিজন ও গ্রামবাসী জেলা আইনজীবী সমিতিতে গিয়ে ঘাতক জাহিদুলের পক্ষে মামলা পরিচালনা না করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানান।
এরই প্রেক্ষিতে শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনায় অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের-(২০) পক্ষে আইনি সাহায়তা না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি।
রোববার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান বাবুল এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইতিপূর্বেও যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে তাদের পক্ষেও দাঁড়ায়নি কোন আইনজীবী। যে শিশু মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার মত যে নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে তার পক্ষে দাঁড়ানোর কোন যৌক্তিকতা নেই। আমাদের কোন আইনজীবী আসামি জাহিদুল ইসলামের পক্ষে আইনী সহায়তা দেবেনা।
এর আগে শিশু মাহিদা ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দ্রæত সম্পন্ন করাসহ অভিযুক্ত জাহিদুলের ফাঁসির দাবিতে আদালত চত্ত¡রে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
শিশু মাহিদার চাচা মোঃ সজিব মিয়া বলেন, আমাদের দাবি দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে মাহিদা হত্যাকান্ডের বিচার কাজ সম্পন্ন করে জাহিদুলকে ফাঁসি দেয়া। মাহিদার মতো আর কোনো শিশু যেন ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের শিকার না হয়- সেজন্য জাহিদুলকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মফিজুর রহমান বাবুল বলেন, ইতোপূর্বেও এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আসামির পক্ষে আমাদের কোনো আইনজীবী লড়েনি। আমরা কোনো আইনজীবী জাহিদুলের পক্ষে আদালতে দাঁড়াবো না। আমরা সকল আইনজীবী মিলে দ্রæত সময়ের মধ্যে যেন মাহিদা ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত হয়- সেজন্য কাজ করব।
গত শুক্রবার দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর ইউনিয়নের আন্দিদিল গ্রামে শিশু মাহিদা আক্তারকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করে জাহিদুল । সে সম্পর্কে মাহিদার চাচা হন।
এ ঘটনায় গত শনিবার বিকেলে জাহিদুলকে আসামি করে আশুগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে নিহত মাহিদার মা মনিরা আক্তার। পরে সন্ধ্যায় তাকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (পঞ্চম) আদালতে তোলা হলে বিচারকের কাছে মাহিদাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় জাহিদুল।
