ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিয়মিত মাদরাসায় না যাওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিশু শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে মুফতি ইব্রাহিম বিন মুজিব নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ (১২) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের মৃত রুমান মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিম বিন মুজিব ওই শিক্ষার্থীর খালু বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আব্দুল্লাহকে কৃষ্ণনগর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদরাসার হিফজ বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, মাদরাসায় ভর্তি হওয়ার পর থেকে সে মাঝেমধ্যে কাউকে না জানিয়ে বাড়িতে চলে যেত। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সে বাড়িতে চলে যায়। পরে তার মা আফরোজা বেগম শিক্ষক মুফতি ইব্রাহিমকে বাড়িতে ডেকে এনে আব্দুল্লাহকে মাদরাসায় নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার সকালে ওই শিক্ষক আব্দুল্লাহকে মাদরাসায় নিয়ে যাওয়ার পর অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন। এতে শিক্ষার্থী আহত হয়। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।

শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর
এদিকে মারধরের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নবীনগর থানায় নিয়ে যায়।
নবীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে ওই শিক্ষককে হেফাজতে নেয়। শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, একটি স্থানীয় প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মারধরটি অতিরিক্ত হয়ে গেছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীর পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
