তালগাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে, কবি সত্যেন্দ্র নাথ দত্তের তালগাছ কবিতার এই লাইনটি এখন অতীত। এক সময় রাস্তার দুপাশে সারি সারি তাল গাছ দেখা যেত।কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই তালগাছ এখন আর দেখা যায়না।

পরিবেশের সৌন্দর্য বর্ধন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার দুধনই–কলসিন্দুর পাকা সড়কের দুই পাশে পাঁচ শতাধিক তালের চারা রোপণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসাইন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সম্প্রতি সড়কটির দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রতিটি চারা সুরক্ষিত রাখতে নীল রঙের জাল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে গবাদিপশু বা অন্যান্য কারণে চারাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন জানান, তালগাছ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি বৃক্ষ। এটি দীর্ঘজীবী, মাটির ক্ষয়রোধে সহায়ক এবং বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ নির্গমনে প্রাকৃতিকভাবে ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই সড়কটি তালগাছের সবুজ সারিতে ঘেরা একটি দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যমণ্ডিত পথে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, গাছের সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চারাগুলোর যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে অভিহিত করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। গামারীতলা গ্রামের বাসিন্দা মোজাম্মেল বলেন,একসময় গ্রামের পথে-প্রান্তরে অসংখ্য তালগাছ দেখা যেত, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংখ্যা কমে গেছে। নতুন করে তালের চারা রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ঐতিহ্যবাহী এই গাছের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

দুধনই–কলসিন্দুর সড়কের দুপাশে সারিবদ্ধভাবে বেড়ে ওঠা তালের চারাগুলো ইতোমধ্যেই পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কয়েক বছরের মধ্যে এই সড়কটি ধোবাউড়ার অন্যতম মনোরম সবুজ করিডোরে পরিণত হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন বলেন,প্রাথমিকভাবে পাঁচশত চারা রোপন করেছি,আরও রোপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।