দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে চলা জমি সংক্রান্ত বিরোধের অবসান ঘটিয়ে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে অবশেষে বাদীপক্ষকে তাদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার দুপুরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবেড় এলাকায় স্থানীয় বিচার পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি বোর্ড গঠন করা হয় এবং পরবর্তীতে বাদীপক্ষ বিচার পাঞ্চায়েত এর পরামর্শ এবং সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর ওর রশিদ এর দিকনির্দেশনায় জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে জমির মালিকানা ও অংশ-বাটোয়ারা নিয়ে সদর সুনামগঞ্জের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে বেড়েরগাও গ্রামের আয়েশা খাতুন বাদী হয়ে রতারগাও গ্রামের আম্বিয়া খাতুন গংদের বিরুদ্ধে একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। বিরোধপূর্ণ ৬৫ কেয়ার জমির মধ্যে অর্ধেক (সাড়ে ৩২ কেয়ার) জমি দাবি করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

পরবর্তীতে এই মামলাকে কেন্দ্র করে একাধিক আপিল ও আইনি প্রক্রিয়া চলে। পর্যায়ক্রমে সহকারী জজ আদালত ও জেলা জজ আদালতে আইনি লড়াই শেষে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মামলার সর্বশেষ রায় ও ডিক্রি প্রদান করা হয়। প্রতিটি ধাপেই আদালতের রায় বাদীপক্ষের অনুকূলে আসে।

আদালতের নির্দেশনা ও রায়ের ভিত্তিতে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় বিচার পঞ্চায়েতের উদ্যোগে উভয় পক্ষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকার বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এতে বাদীপক্ষের রফিক মিয়ার অংশের সাড়ে ৩২ কেয়ার জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং অবশিষ্ট অংশ বিবাদীপক্ষের (ফজলু মেম্বার, খোকন মিয়া, সফদর মড়ল, আবুল কাশেম মাস্টার গং) মধ্যে বণ্টন করা হয়।

আইনি লড়াই শেষে জমি বুঝে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে বাদীপক্ষের রফিক মিয়া বলেন, আমাদের দাদাদের সম্পত্তি ভুলবশত ও না জানিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা কাগজপত্র সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করি। মুনসেফ কোর্ট থেকে শুরু করে জেলা জজ আদালত—প্রতিটি ধাপেই রায় আমাদের পক্ষে এসেছে। দীর্ঘ ২৬ বছরের ভোগান্তি শেষে ন্যায়বিচার পেয়ে আমরা আনন্দিত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ আড়াই দশকের এই বিরোধের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যেই তীব্র মানসিক ও সামাজিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অবশেষে আদালতের রায় ও বিচার পঞ্চায়েতের সুষ্ঠু পদক্ষেপে জমি বুঝিয়ে দেওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ও শান্তির পরিবেশ ফিরে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।