সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বিএনপি নেতা এম শহিদের বিরুদ্ধে তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথের স্পিডবোট চালক রাজু আহমেদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনার পরও তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথে স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে মধ্যনগর সদর বাজার স্পিডবোট ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত এম শহিদ মধ্যনগর উপজেলার চামরদানী ইউনিয়নের দুগনই গ্রামের বাসিন্দা এবং সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক।

ভুক্তভোগী স্পিডবোট চালক রাজু আহমেদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথে চলাচলকারী স্পিডবোট চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে চাঁদা আদায় করে আসছেন এম শহিদ ও তার সহযোগীরা। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন যাত্রী নিয়ে মধ্যনগর ঘাটে পৌঁছালে এম শহিদ তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এম শহিদ বলেন, “গত কিছুদিন ধরে তাহিরপুর-মধ্যনগর নৌপথে চলাচলকারী কয়েকজন স্পিডবোট চালকের বিরুদ্ধে যাত্রী ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আসছিল। সেই বিষয়ে রাজু মিয়ার কাছে তথ্য জানতে চাইলে তিনি সঠিক উত্তর না দিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখানে উপস্থিত আমার পরিচিত কয়েকজন যুবক রাজুকে মারধরের চেষ্টা করে। তবে কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় সেখানে তিনজন সরকারি কর্মকর্তা ও কয়েকজন স্পিডবোট চালক উপস্থিত ছিলেন এবং তারা পুরো বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা নানু মিয়া বলেন, “এম শহিদ ও রাজু মিয়ার মধ্যে কোনো ধরনের চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেনি। যাত্রীদের সঙ্গে চালকদের অসদাচরণের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে কয়েকজন রাজুকে মারতে এগিয়ে গেলে অন্য বোট চালকেরা তাদের নিবৃত্ত করেন।”

অন্যদিকে, তাহিরপুর স্পিডবোট চালক সমিতির সভাপতি হবিব মিয়া বলেন, “আমাদের চালকদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ রাজু আহমেদের ওপর হামলার ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাহিরপুর-মধ্যনগর রুটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্পিডবোট চালক শাহারুল জানান, “তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছে, কিন্তু কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করা হয়নি। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকার যে খবর ছড়িয়েছে, সেটিও সঠিক নয়। বর্তমানে তাহিরপুর-মধ্যনগর রুটে স্পিডবোট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেও এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাহিরপুরের পরিচিত বিএনপি নেতা মেহেদী হাসান উজ্জ্বলের উদ্যোগে উভয় পক্ষকে শান্ত করা হয়েছে এবং বোট চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই করে কারও অন্যায় প্রমাণিত হলে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ কয়েস বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া গেলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এম শহিদকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে।